সময়টা বিগত ২-বছর পূর্বের কথা, আমার সংসারে আমি আমার স্বামী দুই ছেলে নিয়ে আমাদের সংসার। মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের, বুড়িপোতা গ্রামের ঈদগাপাড়ার মোঃ মিনারুল ইসলাম এর স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা খাতুনের নিজের জমি জায়গা ছিল না, অভাবে অনটনে সংসার চলত।

মনোয়ারা খাতুন অনেক কষ্ট করে নিজে একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করে নিজের এবং অন্যদের জামা কাপুড় তৈরি করে নিজের হাত খরচ ও পরিবারের কিছু খরচ করতো। কিন্তু মনোয়ারা খাতুনের ছোট বেলায় হতেই ছাগল পালন করা অনেক শখ ছিল। কথা আছে শখ আছে কিন্তু সাধ্য না। এক পর্যায়ে ২০২৩ সালে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) মোছাঃ মনোয়ারা খাতুনের কাছে যায় এবং পলাশীপাড়া সমাজ কলণ্যা সমিতি এর আশা-(০৮৪) সমিতিতে ভর্তি করায়।

পলাশীপাড়া সমাজ কলণ্যা সমিতি (পিএসকেএস) মোছাঃ মনোয়ারা খাতুনকে প্রথম দফায় ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণ প্রদান করে এবং মনোয়ারা খাতুনকে তার স্বপ্ন পূরনের জন্য ঋনের টাকা দিয়ে কিছু ছাগল ক্রয় করে লালন পালন করতে সাহায্য করে। মনোয়ারা খাতুনের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা দেখে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) মনোয়ারা খাতুনকে ২য় দফায় ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ টাকা মাত্র) ঋণ প্রদান করে এবং আরো ছাগল ক্রয় করতে বলেন। এই টাকা দিয়ে মনোয়ারা খাতুন ২০টি ছাগল ক্রয় করে মাঝারী ধরণের একটি খামার শুরু করল।

মনোয়ারা খাতুনের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন করার সুযোগ হয়ে ওঠে নি। তিনি খামার পরিচালনা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন কিন্তু তার এই ইচ্ছা শক্তি দেখে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) টিম নিজ উদ্যোগে মনোয়ারা খাতুনকে বিভিন্ন ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ছাগল পালনের যাবতীয় বিষয় সমূহ নিয়ে মনোয়ারা খাতুনের সাথে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) টিম দেখা করত এবং পরামর্শ প্রদান করত।

মনোয়ারা খাতুনের খামার যখনএকটু একটু করে বড় হতে শুরু করল এবং পরিচিতি লাভ করল তখন হতেই পিএসকেএস ছাগল গুলোকে বাজারে বিক্রি করার পরার্মশ দেয় । বর্তমানে তার মাসে ২ টি ছাগল বিক্রয় করে ১৫,০০০*২= ৩০,০০০/- টাকা আয় হয় । ছাগল বিক্রয় করে ৩ রুম বিশিষ্ট একটি পাড়া বাড়ি তৈরি করেছেন। এছাড়াও ছাগল বিক্রয় করে তিনি এক ছেলেকে প্রবাস পাঠায়।

পরিশ্রম সৌভাগের প্রসূতী তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হচ্ছে মনোয়ারা খাতুন। বর্তমানে মনোয়ারা খাতুন এখন বড় উদ্যোক্তা হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে। সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছে মনোয়ারা ও মনোয়ারার পরিবার।

মোছাঃ মনোয়ারা খাতুনের এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সামান্য আর্থিক সহযোগিতা পেলে একজন গৃহিণীও সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন। পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) এর লোন এবং মনোয়ারা খাতুনের একাগ্রতা তাকে আজ মেহেরপুর জেলার একজন অনুকরণীয় সফল নারীতে পরিণত করেছে।