
প্রায় ৩০ বছর আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সে চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভাংবাড়ীয়া গ্রামের অতি সাধারণ পরিবারের ছেলে মোঃ কাউছার ভান্ডারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসারের যাত্রা শুরু করেন পারভিনা খাতুন। সংসার জীবনের শুরু থেকেই নানা চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিলো তাদের সংসার। তার স্বামী উত্তরাধীকার সূত্রে পেয়েছিলো ১ বিঘা কৃষি জমি। সামান্য জমি চাষ করে সংসারের চাকা সচল রাখা ছিলো বেশ কঠিন তাই মাঝে মধ্যেই তাকে দিন মজুরের কাজ করতে হত, কিন্তু তার পরও সংসারের চাকা যেন থেমে যাচ্ছিলো।
অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তার একমাত্র মেয়ের লেখাপড়া। কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না পারভিনা দম্পত্তি। এমন সময়ে তার মেয়ে কেউ স্বীকার হতে হয় বাল্যবিবাহের কিন্তু সেই সংসার টেকেনি বেশীদিন। মেয়েটি বাবা মায়ের বাড়ীতে ফিরে আসে আকাঁশ সমান হতাশা নিয়ে।
এবার শুরু হলো তাদের কষ্টের নতুন অধ্যায়। এমতাবস্থায় এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারে সহজ শর্তে এনজিও থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন কথা তেমন কাজ ঐ প্রতিবেশীর সাথে পারভিনা খাতুন সমিতিতে উপস্থিত হয়ে জানতে পারে কিভাবে সহজ শর্তে সমিতি থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়।
পলাশীপাড়া সমাজ কল্যান সমিতি (পিএসকেএস) এর হাটবোয়ালিয়া শাখার একজন মাঠ কর্মকর্তার সাথে তার স্বাক্ষাত হয়। স্বাক্ষাতকালে জানতে পারে কি ভাবে ঋণের টাকা ব্যবহার করে সাবলম্বী হওয়া যায়। পারভিনা খাতুন বাড়ি ফিরে এসে তার স্বামীর সাথে আলোচনা করে একমত হয়ে ঋণ নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অত:পর ১৭.০৯.২০২৩ ইং তারিখে সকল নিয়ম মেনে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) এর হাটবোয়ালিয়া শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে এবং ৪ টি ছাগল ক্রয় করে। তারপর থেকে আর তাকে পিছু হটতে হয়নি। বর্তমানে ২য় দফায় ৫২ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা চলছে এবং তার ঘরে ১২টি ছাগল ও ১ টি গরু বিদ্যমান যার আনুমানিক মূল্য ৩.০০ লক্ষ টাকা।
অর্থের অভাবে লেখা-পড়া বন্ধ হওয়া ও স্বামী কর্তৃক বিতাড়িত মেয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে মায়ের সাথে ছাগল পালন করে ও সমিতির অফিসারদের উৎসাহে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বর্তমানে সে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে সম্মান শ্রেণীতে ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত । বর্তমানে অভাব শব্দটি কল্পনা বেগমের পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে যাদুঘরে অবস্থান করছে।


