
সাধারণ একটি পরিবারে স্বামী সন্তান নিয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই চলমান ছিলো ইসরাত জাহানের পরিবার। স্বামী মাজহারুল ইসলাম কৃষি কাজ করে দিনপাত করছিলো। কিন্তু দিন যত পার হয় সময় তত কঠিন হয়ে ওঠে, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সামান্য কৃষি জমি জমি চাষ করে সংসারের চাকা সচল রাখতে মাজহারুল ইসলামকে করতে হতো দিন রাত পরিশ্রম তারপারও যেন সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। যা দেখে ইসরাত জাহান সর্বদা চিন্তিত থাকতো এবং ভাবতো কিভাবে আমাদের সংসারটাকে সচল করা যায়।
হটাৎ একদিন টিভির পর্দায় গাভী পালন করে সফলতার প্রতিবেদনের ছবি দেখতে পায় ইসরাত জাহান সেই থেকে তার ভাবনার নতুন দিক উন্মোচিত হয়। সেই দিনই সে তার স্বামীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত তারাও গাভী পালন করবে এবং নিজেদের ভাগ্যসহ দুই একজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না তা বাস্তবায়ন করতে হলে টাকার প্রয়োজন। শুরু হলো চিন্তার নতুন ধারা, কোথায় থেকে টাকা জোগাড় করবে। এমন কাউকে দেখা পাচ্ছিলনা যার সাথে টাকা নিয়ে একটি গভী কিনবে।
এমতাবস্থায় এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারে সহজ শর্তে এনজিও থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন কথা তেমন কাজ ঐ প্রতিবেশীর সাথে ইসরাত জাহান পলাশীপাড়া সমাজ কল্যান সমিতি (পিএসকেএস) এর আলমডাঙ্গা শাখার একজন মাঠ কর্মকর্তার সাথে স্বাক্ষাত করে। স্বাক্ষাতকালে জানতে পারে কি ভাবে ঋণের টাকা ব্যবহার করে সাবলম্বী হওয়া যায়। ইসরাত জাহান বাড়ি ফিরে এসে তার স্বামীর সাথে আলোচনা করে একমত হয়ে ঋণ নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অত:পর ১১.০১.২০২৪ ইং তারিখে সকল নিয়ম মেনে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি, আলমডাঙ্গা শাখা থেকে ৯০,০০০/- টাকা ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে এবং সেই টাকা দিয়ে ২ টি গাভী গরু ক্রয় করে তারপর থেকে আর তাকে পিছু হটতে হয়নি। বর্তমানে ৩য় দফায় ২,৫০,০০০/- টাকা ঋণ সুবিধা চলছে এবং তার গরুর খামারে ৮টি বড় গাভী গরুসহ ৬ টি বাছুর বিদ্যমান যার আনুমানিক মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা। তার গরুর খামারে নিজের পরিবারের ২ জন মানুষের কর্মসংস্থানসহ একজন বাইরের মানুষের মজুরী ভিত্তিক কর্মসঙস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তার একটি ছেলে স্থানীয় কলেজে এইচএসসি ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত আর একটি ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র। স্বামী এবং দু’টি ছেলে সন্তান নিয়ে সুন্দর আগামীর জন্য সফলতার সাথে চলছে তাদের পথচলা।


